শেয়ারবাজারে ছোট ছোট কোম্পানির দাম বেড়েই চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েই চলেছে ছোট ছোট ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার পর থেকেই খারাপ কোম্পানির এই দাপট চলছে।

গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ তিনটি স্থানই ছিল জেড গ্রুপের দখলে। আর শীর্ষ ১০টির মধ্যে জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ছিল ৬টি। আগের সপ্তাহে ১০টি স্থানের ৯টিই ছিল জেড গ্রুপের দখলে।

বছরের পর বছর বিনিয়োগকরীদের কোনো লভ্যাংশ না দিয়ে জেড গ্রুপে স্থান করে নেয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের এমন দাম বাড়াকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, অনেক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার দাম এখনও বেশ কম রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেড গ্রুপের কোম্পানির শেয়ার দাম যে হারে বাড়ছে তা কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছে কি না তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষতি দেখা উচিত।

গত সপ্তাহে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি দাপট দেখিয়েছে সাভার রিফ্যাক্টরিজ। এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ার দাম এতোটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে সপ্তাহজুড়ে দাম বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এমন দাম বাড়ার পরও এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী তাদের কাছে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করেননি। ফলে সপ্তাহজুড়ে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৩৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

হঠাৎ শেয়ারের এমন দাম বাড়লেও কোম্পানিটির লভ্যাংশের চিত্র মোটেই ভালো না। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিনিয়োগকারীরা সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ পেয়েছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই। বছরের পর বছর ধরে কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে পচা তথা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অথচ এই পচা কোম্পানির শেয়ার আকাশচুম্বী দামে লেনদেন হচ্ছে। গত সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ২৩৮ টাকা ২০ পয়সা, যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮৪ টাকা ১০ পয়সা।

গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছে আরেক পচা কোম্পানি জিল বাংলা সুগার মিল। বছরের পর বছর ধরে লোকসানে নিমজ্জিত কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্যও ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই।

তবে ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের ব্যবসায় শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪৪ টাকা ৭২ পয়সা।

লোকসানে নিমজ্জিত এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবশ্য গত ৯ জুলাই থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ছে। ৯ জুলাই যেখানে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ছিল ৩১ টাকা ৬০ পয়সা, বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ দেড় মাসেরও কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৩৭৬ শতাংশ।

দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানটি দখল করেছে আরেক পচা কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স। গত সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়া কোম্পানিটি লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৩ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি।

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০-এ স্থানে করে নেয়া বাকি তিন জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হলো ফার্স্ট ফাইন্যান্স, আলহাল টেক্সটাইল এবং শ্যামপুর সুগার মিল। ২০১৪ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়া ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দাম গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। লোকসানে নিমজ্জিত আলহাজ টেক্সটাইলের শেয়ার দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়নি।

আর শ্যামপুর সুগার মিল সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে তার কোনো তথ্য নেই। তবে ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের ব্যবসায় শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৭২ টাকা ৩৮ পয়সা। অথচ এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। শুধু গত সপ্তাহে নয় ৯ জুলাই থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ৯ জুলাই কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৩ টাকা ৮০ পয়সা, যা টানা বেড়ে এখন ৬০ টাকা ১০ পয়সায় উঠেছে। অর্থাৎ দেড় মাসেরও কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১৫৩ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০-এ স্থান করে নেয়া ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মার ৩৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটারের ৩২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ দাম বেড়েছে।

দুরন্ত/২২আগস্ট/পিডি