সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলাধীন কাঁকড়া নদীর কারেন্টহাট বালুমহলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বালুমহলের ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহ।

কোটি কোটি টাকার নতুন কাঁকড়া ব্রীজ এবং কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠের পাশে বড় বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পরেছে চিরিরবন্দরবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত কোটি কোটি টাকা মূল্যের নতুন কাঁকড়া ব্রীজ, রেল ব্রীজ ও কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনারসহ পুরো মাঠটি।

সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বালুমহলের তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বালুমহলের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহ সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এর আগেও অনেক সাংবাদিককে মেরেছেন বলেও জানান তিনি।

বালুমহলটি দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নামে ইজারা নেয়া হলেও বালুমহল দেখাশোনা করেন যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের ভাই আজো শাহ এবং আতিকুর রহমান শাহ। জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪২৭ সালের জন্য চিরিরবন্দর উপজেলার কাঁকড়া নদীর কারেন্টহাট বালুমহলটি সরকারি ইজারা পায় দিনাজপুর শহরের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

তবে এই বালুঘাটটির দায়িত্বে রাখা হয় ইজারাদার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের ভাই আজো শাহ ও হাজী আতিকুর রহমান শাহকে। এলাকায় তাঁদের প্রভাব বিস্তারের কারণে বালুমহল নিয়ে কেউ সংবাদ প্রকাশ করতেও পারে না বলে জানা যায়।

সরকারি বালুমহল হলেও কাঁকড়া নদীর কারেন্টহাট সংলগ্ন নতুন ব্রিজ এবং কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের মাঠ ঘেঁষে দুই পাশে মোট ৭টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পরেছে দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কারেন্টহাট বাজার এলাকাটি।

এছাড়াও বালু নিয়ে ১০ চাকার অবৈধ বড় বড় ট্রাক চালানোর ফলে সরকারি রাস্তাসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পরেছে। এতে করে ওই এলাকার মানুষ পরেছে চরম ভোগান্তিতে।

বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং বালুমহল ইজারা প্রদান ও আনুষাঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন ২০১০ ধারা ৪ (খ) অনুযায়ী স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে যে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন, ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা হতে সর্বনিম্ম ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ কিন্তু সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে কাঁকড়া নদীর উপর একটি রেল ব্রীজ, সরকারের নতুন একটি সড়ক ব্রীজ ও একটি কলেজসহ কারেন্টহাট বাজারটি হুমকির মুখে পরেছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে।

শনিবার (১৬সেপ্টেম্বর) কাঁকড়া নদীর কারেন্টহাট বালুমহলের ছবি তুলে বালুমহলের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহর কাছে ইজারার মালিক এবং ঘাট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এতেই খেপে যান আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, “‘অফিসে যান, অফিসে সব কিছু আছে। এইখানে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে? এরকম কোন ম্যানুয়াল আছে আমার? আপনি সাংবাদিক হইছেন তা কি হইছে?”

এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? বললে তিনি আরো রেগে গিয়ে বলেন, “তুই এগুলো আমার কাছ থেকে নিবি কেন? সরকারি অফিস আছে না? সরকারি অফিসে গিয়ে নে! এখানে কার লোম ছেড়ার জন্য আসছিস? তুমি আমাকে চেনো? আমি সাংবাদিককে পেটানো লোক। আমি এর আগে সাংবাদিককে মেরেছি”! শুনে দেখিস! সেখানে কেস পর্যন্ত হইছে। তুমি কে তোমাকে উত্তর দিব কেন? এখানে তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে কেন? এখানে ফাজলামো করার জন্য আসছেন! তুমি এখানে আসছ কেন? তুমি সাংবাদিক হয়েছো বলে আমি হাতে চুড়ি পরে থাকব না। পারলে আমার বিরুদ্ধে পেপারিং করে দিস যা! আমার কি ছিড়তে পারিস তোকে আমি দেখে নিব!’”

কাঁকড়া নদীর বালুমহলের ইজারাদার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের সাথে এবিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত একাধিক নম্বরে কল করা হলেও তার সব নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিরিরবন্দরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইরতিজা হাসান বলেন, ‘এর আগেও এই ঘাট মালিককে জরিমানা করা হয়েছিল। তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে ড্রেজার মেশিন না চালায়। কিন্তু তারা কথা শোনেননি। বিষয়টা আমি ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করে দেখি। যা ব্যবস্থা নিতে বলে সেটা নিব।’”

জানতে চাইলে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপনাকে এভাবে বলা ঠিক হয়নি। আপনি থানায় অথবা ইউএনও অফিসে একটা অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা ব্যবস্থা নিব। এর বাইরেও আমরা বিষয়টা দেখতেছি। তাদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নিব”।