‘সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি’


বিশেষ প্রতিবেদক:

নিজেকে সৎ, দক্ষ ও সফল দাবি করে পদত্যাগ করে দূর্নীতি দমন কমিশনে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘যতদিন মহাপরিচালক পদে ছিলাম, ততদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না।’

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১২ আগস্ট) তাকে দুদকে তলব করা হয়। সকাল ১০টায় তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হন, আর বের হন বিকেল ৩টায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক কর্মকর্তারা যেসব বিষয়ে জানতে চেয়েছেন এর মধ্যে তিনি যা জানেন সবকিছু বলেছেন। তিনি দুর্নীতির তদন্তে দুদককে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান।

সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালক নিজেকে সৎ, দক্ষ ও সফল কর্মকর্তা দাবি করে জানান, ২০১৬ সাল থেকে মহাপরিচালক পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করে আসলেও একটি কুচক্রি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। করোনাকালে এ কুচক্রি মহল আরও তৎপর হয়।

আবুল কালাম আজাদ জানান, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে তার পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আছে।

তিনি বলেন, ‘কোভিডের মতো মহাদুর্যোগে লাখ লাখ মানুষের যাতে প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য আমি আমার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেকবোধ থেকে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে কাজ করেছি। এরপরও কোভিড থেকে নিজেকেও বাঁচাতে পারিনি।’ অপরাধ যে-ই করুক, তার বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক মো. আমিনুল হাসানসহ চার কর্মকর্তা দুদকে হাজির হন। অন্যরা হলেন- উপপরিচালক মো. ইউনুস আলী, মো. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম।

দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ও শেখ মো. ফানাফিল্যা পৃথক দুটি দাফতরিক চিঠিতে আবুল কালাম আজাদকে তলব করেন। তলবের চিঠিতে ১২ ও ১৩ আগস্ট তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।