সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্টের কোনো পদই নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফার্মাসিস্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনো দেশের সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদই নেই। হাসপাতালের ফার্মেসি ও অন্তর্বিভাগে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট না থাকায় অহরহ ভুল চিকিৎসার শিকারও হচ্ছেন রোগীরা।

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল পরিচালিত দুটি ফার্মাসির কোনটিতেই গ্রাজুয়েট কোন ফার্মাসিস্ট নেই। ডিপ্লোমা বা বি গ্রেড ফার্মাসিস্ট দুই তিনজন থাকলেও বৃহৎ এই হাসপাতালের ফার্মেসি চলছে নন ফার্মাসিস্টদের নিয়ে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।

হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের ফার্মেসিতে রয়েছে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট। উন্নতবিশ্বে হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসি ছাড়াও প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে একজন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকলেও দেশের সরকারি হাসপাতালে গ্র্যাজুয়েটদের কোন পদই নেই।

অথচ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর প্রেসক্রিপশন যাচাই করে রোগীকে বুঝিয়ে দেয়া, ওষুধের ব্যবহারিবিধি ও সংরক্ষণ নিয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী নেয়া একজন ফার্মাসিস্ট।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, রোগীর স্বার্থে একজন ভালো ফার্মাসিস্ট অবশ্যই দরকার। কেননা রোগী বুঝবে না, নিজের ইচ্ছেমত ওষুধ খাবে। এতে তার ক্ষতিও হতে পারে।

হাসপাতালে সেবা দানের সুযোগ না থাকায় ফার্মাসিস্টদের ৯০ শতাংশই কাজ করছেন ওষুধ কোম্পানিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি রোগীর সেবায় ভূমিকা রাখতে না পারায় অনেকক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম আবদুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের ড্রাগ পলিসিতে বলা হয়েছে; অবশ্যই হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট রাখতে হবে এবং হাসপাতালে ফার্মেসি রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে হলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে ধরনের ঝুঁকি রয়েছে; সেগুলো কমাতে হবে।

২০১৮ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগে সরকারি গেজেট প্রকাশ করলেও আজও তার বাস্তবায়ন নেই। সমস্যা সমাধানে স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার দাবি বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের।