সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু আজ ১৮ মে ২০২১ সংবাদপত্রে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গতকাল সচিবালয়ে ৫ ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রোজিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি বিনা অনুমতিতে স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিবের রুম থেকে গোপনীয় কাগজপত্র সরানো ও মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে অপরাধ করেছেন, তাই তার নামে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেসি আইনের বাংলাদেশী সংস্করণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকী স্বরূপ। সচিবালয়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, যদি রোজিনা বিনা অনুমতিতে কোন ফাইল নিয়ে থাকেন বা ছবি তুলে থাকেন তা ফুটেজে থাকার কথা কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার প্রশাসন তা দেখাননি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দুর্নীতির কথা আজ দেশের সকলের জানা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিশাল চিত্র ইতিমধ্যেই জনসম্মুখে প্রকাশিত। করোনাকালে রিজেন্ট, জিকেজির দুর্নীতি, পূর্বে মিঠু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, স্বাস্থ্যের ডিজির গাড়ী চালকের দুর্নীতির খবরও দেশবাসী জানে।

সম্প্রতি ১৮০০ টেকনোলজিস্ট নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য, ৯ সরকারি হাসপাতালে ৩৫০ কোটি টাকার জরুরি কেনা কাটাসহ বেশ কিছু লোমহর্ষক দুর্নীতি অনিয়মের অনুসন্ধানী খবর রোজিনা ইসলাম এর রিপোর্টে দেশবাসী জানতে পেরেছে। রোজিনাকে আটক রাখা এবং গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ ওই সব আমলা প্রশাসনেরই আক্রোশের ফল।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেসার অবৈধ সম্পদের বিবরণ স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে; যেখানে কানাডায় তার ৩টি, সাউথ লন্ডনে ১টি, ঢাকায় ৪টি বাড়ী এবং গাজীপুরে ২১ বিঘা সম্পত্তি ও ব্যাংকে নামে বেনামে ৮০ কোটি টাকার এফডিআরের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দুর্নীতি করা ছাড়া সৎ পথে তার বেতনের টাকায় একজন সরকারি আমলা কি করে এতো সম্পদের মালিক বনে যান।

নেতৃবৃন্দ ওই আমলার সম্পদ অর্জনের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোজিনাকে নির্যাতনের দায়ে তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সাথে রোজিনার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং বাক-ব্যক্তি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধকারী কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান।