সাভারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে আদালতে ২ কিশোর গ্যাংয়ের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সাভার সংবাদদাতা:

সাভারে আশুলিয়ার ভাদাইলে কিশোরী (১৮) শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কিশোর গ্যাং নেতা সারুখ ও জাকির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিচারিক আদালত-৩ এর ইন্সপেক্টর রিয়াজউদ্দীন আহমেদ এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতের হাকিম মোহাম্মদ রাজিব হাসান ও মনিরুজ্জামান নিজস্ব পৃথক কামরায় দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া মামালায় গ্রেপ্তার অপর আসামি ডায়মন্ড আল-আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিকে নাবালক দাবি করায় তার রিমান্ড আবেদন আগামী রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, আশুলিয়ার থানার পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স) একেএম ফজলুল হক গ্রেপ্তারকৃতদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করেন।

এর আগে বুধবার রাতে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় আসামি করা হয়েছে নড়াইল জেলার কালিয়া থানার মহিষখোলা গ্রামের সারুখ (১৮), আল আমিন ওরফে সাধু মার্কেট আল আমিন (১৯), গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার বাগবাড়ি এলাকার ডায়মন্ড আল আমিন (১৮), রংপুর জেলার পীরগাছা থানার প্রতাববিষু গ্রামের জাকির হোসেন (১৮), ভাদাইল এলাকার রেদওয়ান (১৯), ভাদাইল এলাকার আক্কাস আলী মার্কেট এলাকার বাদশা (১৮), ভাদাইলের পবনারটেক ক্লাব এলাকার জিহাদ (২০), ভাদাইলের পবনারটেক এলাকার আল আমিন ওরফে গরু আল আমিন, আলুর মার্কেট এলাকার আল আমিন ওরফে বাটা আল আমিন (১৯), ভাদাইলের সাধু মার্কেট এলাকার শাকিল (১৯)।

এর আগে, সন্দেহভাজন হিসেবে গতকাল মোট চার জনকে আটক করা হলেও রাকিব হোসেন নামের একজনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়ার ভাদাইল গুলিয়ারচর এলাকায় ওই কিশোরী তার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ও বান্ধবীসহ মোট চার জন ঘুরতে যায়। পথে মামলার আসামিরা তাদের আটক করে মারধর করে। পরে ওই কিশোরীকে কিছু দূরে একটি হাউজিং প্রকল্পের নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত তিন দিন আগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ পেলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করে।