সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভার শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য শিল্পী আখতার।

‘‘সহিংসতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চাই’’-এই স্লোগানে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এক অসাম্প্রদায়িক, সমতাপূর্ণ ও মানবিক সমাজের তৈরির যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো তা পূর্ণ হয়নি।সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় যে দেশে ধর্ম অ্বমানননার নামে সহিংসতা সৃষ্টি করা হয় যার শিকার হয় নারী সহ সকলে।

ঘটনা ঘটার পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা স্বত্তেও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা হতে দেথা যায়। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতা ঘটনা ঘটার আগেই হওয়া প্রয়োজন। সহিংসতামু্ক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এইসব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ওয়াই ডব্লিউ সিএ এর সাধারণ সম্পাদক হেলেনা মনীষা সরকার; আইন ও শালিস কেন্দ্রের রাখী জামান; উইক্যান এলায়েন্সের জিনাত আরা হক. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি রেখা চৌধুরী; স্টেপস টুয়ার্ডস এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার; জাতীয় নারী জোটের আফরোজা হক রীনাম একশন এইডের মরিয়ম নেছা; বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের শাহিদা পারভীন শিখা; এডাবের পরিচালক এ.কেএম জসীম উদ্দিন, দলিত নারী ফোরামের তামান্না; বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন; নিজেরা করি এর সৈয়দ ফরহাদ; কর্মজীবি নারীর হাসিনা আক্তার নাইলু; জাতীয় কন্যা শিশু এ্যডভোকেসি ফোরামের নাছিমা আক্তার জলি;

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক; সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান ড. মালেকা বেগম।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, কর্মসূচিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে দাবি (সংযুক্ত) তুলে ধরেন আইইডি এর সঞ্চিতা তালুকদার। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন স্টেপস এর চন্দন লাহিড়ী।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন সাম্প্রতিক সময়ে সর্বত্র হত্যা, খুন, নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে মিডিয়ার খবর থেকে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ হচ্ছে নির্যাতনের শিকার। এই সকল ঘটনায় তদন্তে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এক অদৃশ্য যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায় অপরাধীদের অপরাধ সংগঠনে। এমনকি অপরাধীদের সাথে তাদের এক ধরণের নিবিড় সংশ্লিষ্টতা লক্ষ্য করা যায়।

এই ধরণের অরাজক অবস্থা প্রতিহত করতে তিনি সংসদে কোন জনপ্রতিনিধি তার এলাকায় কত ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত সেটি খতিয়ে দেখার আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে উন্নয়নও হচ্ছে। এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি-এর জন্য সংবিধান পরিবর্তন, ৭২ এর সংবিধান নীতি অনুসরণ করা, জনপ্রতিনিধিদের কাজের হিসাব নেয়া, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধ করা, ফতোয়ার নারী বিরোধী বক্তব্যের জন্য শাস্তি এবং শিক্ষাকে মানবিক করে গড়ে তোলার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

দুরন্ত/‌১২নভেম্বর/আইএম