স্পেনের কাছে উড়ে গেলো ইউক্রেন

দুরন্ত ডেস্ক:

আনসু ফাতিকে নাগরিকত্ব দিয়েছে স্পেনের। এখন মাত্র ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়কর ফুটবলার ফাতি স্পেনের।

স্পেনের জার্সি গায়ে দেয়ার পর নিজেকে যেন চেনানোর তাড়া আনসু ফাতির মধ্যে। সে কারণেই নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই করে বসলেন গোল।

শুধু আনসু ফাতিই নয়, স্পেনের বর্তমান অধিনায়ক সার্জিও রামোস করলেন জোড়া গোল। রামোস আর ফাতির সামনে উড়ে গেলো ইউক্রেন। উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউক্রেনকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের হয়ে বাকি গোলটি এসেছে ফেরান তোরেসের পা থেকে।

জার্মানির বিপক্ষেই অভিষেক ঘটে আনসু ফাতির। যদিও ওই ম্যাচে সেরা একাদশে ছিলেন না। পরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জেসাস নাভাসকে বসিয়ে রেখে আনসু ফাতিকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস এনরিকে। কিন্তু ইউক্রেনের বিপক্ষে তাকে রাখা হয় মূল একাদশে এবং পুরো ম্যাচই খেলেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইউক্রেনের বিপক্ষে তুমুল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে স্পেন। যে কারণে ম্যাচের তৃতীয় মিনিট যেতে না যেতেই গোল আদায় করে নেয় তারা। যদিও গোলটি এসেছে পেনাল্টি থেকে।

পেনাল্টি আদায় করেন আনসু ফাতিই। তাকেই বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন ইউক্রেনের এক ডিফেন্ডার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক নিতে আসেন স্পেন অধিনায়ক রামোস। তৃতীয় মিনিটেই গোল দিয়ে দারুণ উজ্জীবিত স্প্যানিশরা পুরো ম্যাচ থেকেই যেন আউট করে দেয় ইউক্রেনকে।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে স্পেনকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন সেই সার্জিও রামোসই। এবার আর পেনাল্টি থেকে নয়। দুর্দান্ত এক হেডে ইউক্রেনিয়ানদের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।

ইউক্রেনের আক্রমণভাগে নিয়মিতই আতঙ্ক তৈরি করে যান আনসু ফাতি। যে কারণে রামোসের দ্বিতীয় গোলের তিনি মিনিট পরই, ম্যাচের ৩২তম মিনিটে গোল করেন ফাতি। দুর্দান্ত এক শটে ইউক্রেনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এরপর কিছুক্ষণ পর তার আরও একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা চলে যায় একেবারে বার ঘেঁষে।

প্রথমার্ধেই স্পেন এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হচ্ছিল না। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে, ৮৪তম মিনিটে ইউক্রেনের জালে চতুর্থবারেরমত বল জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ২০ বছর বয়সী আরেত তরুণ, ফেরান তোরেস।

ম্যাচের পর আনসু ফাতির প্রশংসা করে সার্জিও রামোস বলেন, ‘আমি আনসুকে অভিনন্দন জানাই। খুবই তরুণ একজন ফুটবলার সে। কিন্তু এই বয়সেই আমাদেরকে ফ্রেশনেস উপহার দিয়েছে সে। একই সঙ্গে আমরা যা চাই, সেটাও উপহার দিতে পেরেছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে এভাবে ফুটবলার উঠে আসা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সম্ভাবনা। তার মত একজন খেলোয়াড় পেয়ে আমরা সত্যিই অভিভূত।’

তবে শুধুমাত্র ফাতিকে কৃতিত্ব দিয়েই থেমে থাকলেন না রামোস। জয়টা এসেছে পুরো দলের প্রচেষ্টাতেই। সেটাই মনে করিয়ে দিলেন তিনি। রামোস বলেন, ‘তবে শুধু ফাতিই নয়, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই আজ (রোববার) নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে। এটাই এখন তাদের মুহূর্ত (আনন্দ করার)। আশা করি, একদিন তারা এভাবে শীর্ষে পৌঁছে যাবে।’