হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফর, গুরুত্ব বয়ে আনে

আবদুল মান্নান:

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা অনেকটা নাটকীয়ভাবে ২৪ ঘণ্টার সফরে ঢাকা আসেন গত মঙ্গলবার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে বিমানটি অবতরণ করেছিল কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। এই বিমানবন্দর সাধারণত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করে। করোনাজনিত কারণে বাংলাদেশ-ভারতে এ মুহূর্তে বিমান চলাচল বন্ধ আছে।

বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ। তিনি যে ঢাকা আসবেন সে খবরটি তাঁর আসার দিন বাংলাদেশের ও ভারতের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কেন তিনি হঠাৎ করে ঢাকা আসছেন, এ বিষয়ে ভারতের গণমাধ্যম অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছে। এটি শ্রিংলার কোনো আনুষ্ঠানিক সফর ছিল না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব বিদেশ সফর রাষ্ট্রীয় বা আনুষ্ঠানিক হয় না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত তিন বছরে তিনবার ভারতে গিয়েছেন অনানুষ্ঠানিক সফরে। প্রথমবার ২০১৮ সালে শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন ও আসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ডি.লিট ডিগ্রি গ্রহণ করার জন্য। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছেন দিল্লিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে। পরের মাসে গিয়েছেন কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ উদ্বোধন করতে। অনানুষ্ঠানিক সফরে সাধারণত কোনো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল থাকে না।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশে খুব পরিচিত একটি নাম। তিনি ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। খুবই বন্ধুবৎসল এবং তাঁর মেয়াদকালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক উঁচুতে উঠেছিল। মহারাষ্ট্রের মানুষ হয়েও তিনি বাংলা বলতেন ভালো। দেশের অনেক সুধীজনের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর শ্রিংলার পোস্টিং ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। সাধারণত এমনটি ঘটে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই পোস্টিং পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তাঁর দক্ষতার মূল্যায়ন। অনেকটা বছর না ঘুরতেই তিনি ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

ঢাকায় অবতরণের পর সন্ধ্যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করেন। কূটনৈতিক ভাষায় এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ, কোনো এজেন্ডা ছিল না। গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল শেখ হাসিনার জন্য তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বার্তা নিয়ে এসেছেন। কী সেই বার্তা তা জানা যায়নি। করোনাকালে এটি শেখ হাসিনার প্রথম কোনো বিদেশি অতিথির সঙ্গে সাক্ষাৎ। গত কয়েক মাস ধরে তিনি তাঁর নিজের দলের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গেও তেমন একটা সাক্ষাৎ করেননি। সাবধানে থাকাটা ভালো।

শ্রিংলা বুধবার চলে যাওয়ার পর তাঁর এই সফর নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নানা ধরনের তথ্য, খবরের পেছনের খবর, শ্রিংলা কী দিলেন আর কী নিয়ে গেলেন—এসব রহস্যভেদে ব্যস্ত। সেদিন রাতের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তো শ্রিংলা ছাড়া বস্তুত আর কিছুই ছিল না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সফর একটি রুটিন সফর এবং এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আরো অনেক বেশি মজবুত হয়েছে। তাঁরা অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভারতের ‘দি হিন্দু’ পত্রিকায় সুহাসিনী হায়দার ও কল্লোল ভট্টাচার্য লিখেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আগামী দুই বছর বাংলাদেশ-ভারতের কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সে সম্পর্কে শ্রিংলাকে তাঁর মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা ছাড়ার আগে শ্রিংলা জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ভারত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবিষ্কৃত করোনার যে ভ্যাকসিন বানাবে সেটি যে কয়টি দেশকে প্রথমে দেওয়া হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

শ্রিংলার এই সফর নিয়ে অনুমাননির্ভর আরো কিছু বিচার-বিশ্লেষণ বেশ কিছুদিন হবে। তবে একটি কথা পরিষ্কার, তার এই চটজলদি সফর, ত্বরিত শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ—এটি প্রমাণ করে ভারতের জন্য বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এতদঞ্চলে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত অবস্থান। নব্বইয়ের শেখ হাসিনা আর বর্তমানের শেখ হাসিনার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। নব্বইয়ে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রাচার বিষয়ে কিছুটা শিক্ষানবিশ ছিলেন, বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে একজন স্বীকৃত রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর বিদেশ সফরকালে তিনবার তাঁর সফরসঙ্গী হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি টের পেয়েছি, তাঁকে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানরা কতটুকু সম্মান করেন।

অনেক কারণে বাংলাদেশ ভারতের কাছে তার অন্য প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত আফগানিস্তান ছাড়া সার্কের অন্তর্ভুক্ত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিককালে ভারতের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে, তা স্বীকার করতে হবে। এমনকি ছোট দেশ নেপালের সঙ্গে সীমান্তরেখা নিয়েও ঝামেলা হয়েছে। আছে রামের জন্ম কোথায় তা নিয়ে বিতর্ক। উত্তরে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে সম্প্রতি। তাতে অফিসারসহ ২০ জন ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে তা ভারতেরই ক্ষতি, তা ভারতও বোঝে। ভারতের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার, আর এই বাণিজ্যে সব সময় চীনের আধিপত্য বজায় ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব সময় ভালো। বন্ধনটা রক্তের। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে এবং রক্ত দিয়েছে। কোনো কোনো হিসাব মতে, এই যুদ্ধে ছয় হাজার ভারতীয় সেনা সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। অন্য হিসাব মতে, এই সংখ্যা আরো বেশি। বাংলাদেশ ভারতের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক নিরাপত্তার কারণে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখলে ভারতের লাভ অনেক বেশি। সুতরাং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হবে ভারতের জন্য বিলাসিতা। মনে রাখতে হবে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কখনো সীমান্ত সংঘর্ষ হয়নি, বরং শেখ হাসিনার মেয়াদকালে দুই দেশের সীমান্ত চিহ্নিতকরণ সমাপ্ত হয়েছে এবং ১৯৪৭ সাল থেকে অমীমাংসিত ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণে।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এমনকি এরশাদের সময়ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হতো। খালেদা জিয়ার শাসনামলে তাঁর একজন মন্ত্রী জাতীয় সংসদে এদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাদের সমর্থন দেওয়া বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। শেখ হাসিনার মেয়াদকালে এসব পৃষ্ঠপোষকতা শুধু বন্ধই হয়নি, এদের সব ঘাঁটি উচ্ছেদ করা হয়েছে, কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শান্ত। শেখ হাসিনা একবার বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি তা সারা জীবন মনে রাখবে।’ একটি মতলবের জাতীয় দৈনিক খবরটাকে টুইস্ট করে লিখেছিল, বাংলাদেশ ভারতকে সব দিয়ে দিয়েছে। একটি দেশের নিরাপত্তার চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নৌ, স্থল ও রেলপথে ট্রানজিট দেওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ত্রিপুরায় বোতলজাত এলপিজি রপ্তানি করছে। বাংলাদেশের অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে ভারত জড়িত। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ভারতে আগত প্রতি পাঁচজন বিদেশি পর্যটকের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। বছরে নানা কারণে আনুমানিক ২৫ লাখ বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেন। গড়ে প্রতিবছর ভারতে এই ভ্রমণকারীরা দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি রুপি ব্যয় করেন, যা ভারতের অর্থনীতিকে মজবুত রাখতে সহায়তা করে। বেশির ভাগ মানুষ যায় চিকিৎসা আর বাজার করতে। অনেকে দিল্লি, আগ্রা ও আজমিরে যান। ঈদ বা নববর্ষে শুধু কলকাতায় গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করেন এবং নানাভাবে অর্থ ব্যয় করেন। কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকার সব ধরনের ব্যবসা বাংলাদেশের মানুষের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে। চেন্নাই, ভেলোরের হাসপাতালের অনেক সিট এখন খালি। কারণ করোনাকালে কোনো রোগী সেখানে যেতে পারছে না। যেসব ব্যক্তি সকাল-বিকাল ভারতের সমালোচনা করতে করতে মুখে ফেনা তোলে, তাদের সন্তানের বিয়ের বাজার কলকাতা থেকে না করলে মনে শান্তি আসে না। এই করোনাকালে আমাদের দেশ থেকে মানুষ না যাওয়ায় বাংলাদেশিকেন্দ্রিক সব ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট চালু করতে বেশ উদ্গ্রীব। বেসরকারি হিসাব মতে, পাঁচ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত, যাদের মাত্র ১০ শতাংশের সরকারি অনুমোদন আছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য মতে, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়রা বছরে তাদের দেশে আনুমানিক চার বিলিয়ন ডলার পাঠায়। এরা সাধারণত তথ্য-প্রযুক্তি, সেবা খাত ও তৈরি পোশাকশিল্পে কাজ করে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো এসব বিষয়ে মাথা ঘামায় না। এই দেশের মানুষের উদারতা পরীক্ষিত।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চিড় ধরায় বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকটি মহল বেশ তৎপর রয়েছে। তারা যেমন ভারত থেকে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকেও করে। শ্রিংলার মিশনের একটি এজেন্ডা নিশ্চয় ছিল, এ বিষয়ে বাংলাদেশের তথা শেখ হাসিনার মনোভাব বোঝা। তিনি তা বুঝেছেন। শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের জনগণ এত অকৃতজ্ঞ নয় যে তারা ভারতের বন্ধুত্বের সঠিক মূল্যায়ন করবে না। মাঝেমধ্যে এ সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয় অথবা টানাপড়েনে পড়ে। শ্রিংলার সফর হয়তো দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে আবারও নিশ্চিত করেছে। সম্পর্ক সব সময় ভালো ছিল। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিরাজমান সব ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো আর সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণটাই ভারতের। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা তো এত কঠিন কাজ না। এমন হত্যা তো অন্য কোনো সীমান্তে ঘটে না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তেও না। এক তিস্তার পানিবিষয়ক জটিলতা তো এ দেশের মানুষকে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এসব সমস্যার সমাধান কি খুব বেশি কঠিন? ভারতের কোনো কোনো পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়েছে যে সম্ভবত বাংলাদেশ যে তিস্তা নদীতে শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখার ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে চীনের এক বিলিয়ন ডলারের সহায়তায় যে জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, তাতে চিন্তিত হয়ে শ্রিংলা ভারতের মনোভাব জানাতে এসেছিলেন। এই খবরের সত্যতা যাচাই করার উপায় নেই। তবে তা যদি সত্যও হয়, তাতে ভারতের তো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। বাংলাদেশকে তো প্রথমে নিজ দেশের স্বার্থ দেখতে হবে আর শেখ হাসিনা সব সময় তা-ই করে এসেছেন। দেশের স্বার্থের ব্যাপারে শেখ হাসিনা সব সময় সচেতন। ভারতকে একটি কথা সব সময় মনে রাখতে হবে। হয়তো দুটি দেশের সম্পর্ক মাঝেমধ্যে বহতা নদীর মতো উঠানামা করবে; কিন্তু কখনো তা ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের মতো হবে না। আর শেখ হাসিনা যতক্ষণ ক্ষমতায় আছেন, ততক্ষণ ভারতের এ বিষয়ে উৎকণ্ঠিত না হলেও চলবে। ভারতের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে, এমন কোনো কাজ না করা বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া, যাতে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরে। এতে ক্ষতিটা ভারতের যত, বাংলাদেশের তত নয়। ভারত আর বাংলাদেশ দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। অনেক কিছু পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখের সঙ্গী হবে—এটাই তো কাম্য।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক