হারামের বিকল্প হয়েছে হালাল বস্তু

দুরন্ত ডেস্ক:

ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত জীবনবিধান। তাই মানুষের জীবন স্বচ্ছন্দ করার উদ্দেশ্যে ইসলামের বহু বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলামে যদি কোনো জিনিস হারাম করা হয়, তাহলে তার পরিবর্তে কোনো উৎকৃষ্টতর জিনিসকে হালাল করে দেওয়া হয়েছে।

ইসলাম পাশা খেলার মাধ্যমে ভাগ্য জানাকে হারাম করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে ইস্তিখারার দোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ইস্তিখারার মাধ্যমে কোনো কাজের ভালো-মন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ইসলাম সুদ খাওয়া হারাম করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে মুনাফাপূর্ণ ব্যবসা বৈধ করে দিয়েছে।

ইসলাম জুয়া খেলা হারাম করেছে, এর পরিবর্তে ঘোড়া, উষ্ট্র ও তীরের সেসব প্রতিযোগিতালব্ধ ধনসম্পদ গ্রহণ বৈধ করেছে। শর্ত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত তা শরিয়তের পরিপন্থী নয়।

ইসলাম পুরুষদের রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এর পরিবর্তে সুতা, পশম, কাতানের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় পোশাক বৈধ করেছে। ইসলাম জিনা-ব্যভিচার ও পুংমৈথুন হারাম করেছে। এর পরিবর্তে বিবাহিতা স্ত্রীর সঙ্গে বৈধভাবে যৌন সঙ্গম বৈধ করেছে। ইসলাম মাদকদ্রব্য হারাম করেছে। এর পরিবর্তে দেহ ও মনের উপকারী সুস্বাদু পানীয় হালাল করে দিয়েছে। ইসলাম খারাপ ও নিকৃষ্ট ধরনের খাদ্য হারাম করেছে। এর পরিবর্তে উত্তম, উৎকৃষ্ট ও ভালো খাদ্য হালাল করে দিয়েছে।

এভাবে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিধানের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা যদি একদিকে মানুষের জীবনে কোনো কোনো জিনিসকে হারাম করে থাকেন, তাহলে অন্যদিকে বহু জিনিসকে হালাল করে জীবনকে বিপুল প্রশস্ততা ও উদারতা এনে দিয়েছেন। একদিকের দুয়ার বন্ধ করে তিনি অন্যদিকের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করতে চান, কিন্তু যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথবিচ্যুত হও। আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করতে চান। কেননা মানুষ তো দুর্বলতম সৃষ্টি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৭-২৮)